বিভাগের আর্কাইভঃ প্রেস রিলিজ

নেলসন ম্যান্ডেলা আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস এর বাণী ১৮ জুলাই ২০১৯

আজকের এই দিনে আমরা অসাধারন একজন নেতার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছি যিনি সম্মান ও সমতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একজন বৈশ্বিক প্রচারক এবং আমাদের এসময় কালের সর্বোচ্চ আদর্শিক এবং অনুপ্রেরনা প্রদানকারী নেতাদের একজন  সাহসদয়াস্বাধীনতা, শান্তি ও সামাজিক ন্যায় বিচারের প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দৃষ্টান্ত নেলসন ম্যান্ডেলা । এসব নীতি দ্বারা প্রভাবিত ছিলো তাঁর জীবন । আর তাই তিনি নিজের স্বাধীনতা এমনকি জীবনের বিনিময়ে এই নীতিগুলো অক্ষুন্ন রেখে গেছেন । 

নেলসন ম্যান্ডেলার সামাজিক ঐক্য এবং বর্ণবাদ নির্মূলের আহবান আজকের ধিক্কার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে জগত ব্যাপী অমানিষার সাথে বিশেষ ভাবে সম্পর্কিত । আমরা যেহেতু সবার জন্য শান্তিস্থিতীশীলতাটেকসই উন্নয়ন ও মানবাধিকার নিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করছিনেলসন ম্যান্ডেলার ধারণাগুলো আমাদের কাজকে ত্বরান্বিত করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে ।

আমাদের কাজের মাঝেই সর্বোৎকৃষ্ট শ্রদ্ধা নিহিত রয়েছে । বিশ্ববাসীর কাছে নেলসন ম্যান্ডেলার বাণী সুস্পষ্ট । প্রতিক্ষিত পরিবর্তনের লক্ষ্যে আমাদের সকলকে এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে কাজ করতে হবে । এটি করা আমাদের সকলের দায়িত্ব। আসুননেলসন ম্যান্ডেলার কর্ম ও জীবন চর্চার এই দিনে আমরা তাঁর জীবনাদর্শ সাদরে গ্রহণ করি এবং তাঁর মত করে দৃষ্টান্ত স্থাপনে সচেষ্ট হই 

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস এর বাণী, ৩ মে ২০১৯

একটি মুক্ত গণমাধ্যম শান্তি, ন্যায়বিচার, টেকসই উন্নয়ন এবং মানবাধিকারের জন্য অপরিহার্য ।

স্বচ্ছ এবং নির্ভরযোগ্য তথ্যে প্রবেশাধিকার ছাড়া কোন গণতন্ত্রই সম্পূর্ণ নয় । ন্যায্য ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে, নেতাদের জবাবদিহীতায় নিয়ে আসতে এবং ক্ষমতার সামনে সত্য বলার জন্য এটিই হচ্ছে মূল ভিত্তি ।

এটি নির্বাচনী মৌসুমে বিশেষ ভাবে সত্য, যা এবছরের বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের কেন্দ্রবিন্দু ।

মিথ্যা নয় বরং সত্যর মাধ্যমে জনগণকে তাদের প্রতিনিধি নির্ধারনে নির্দেশনা প্রদান করা উচিত ।

এখনো পর্যন্ত প্রযুক্তি তথ্য প্রাপ্তি ও ভাগাভাগিতে রুপান্তর হিসাবে কাজ করছে । কোন কোন সময় মতামতকে বিভ্রান্ত করতে এবং সহিংসতা ও ঘৃণা উসকে দিতে ব্যবহৃত হয় । বিস্তারিত পড়ুন

কক্সবাজারে জাতিসংঘের তিন সংস্থার প্রধান কতৃক সংবাদ সম্মেলন

২৬ এপ্রিল ২০১৯: জাতিসংঘের তিনটি সংস্থার প্রধান– জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) হাইকমিশনার, ফিলিপ্পো গ্রান্ডি; আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) মহাপরিচালক, আন্তোনিও ভিটোরিনো; জাতিসংঘের জরুরি ত্রাণবিষয়ক সমন্বয়ক এবং জাতিসংঘের মানবিক বিষয়াদি সমন্বয়কারী অফিসের (ওসিএইচএ) প্রধান মার্ক লোওকক, রোহিঙ্গা শরনার্থীদের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশে আসেন। গত শুক্রবার রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে কক্সবাজারের স্থানীয় একটি হোটেলে তিন সংস্থার প্রধানকে নিয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। প্রায় ৭০ জন স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকবৃন্দ এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পোও সংবাদ সম্মেলনে অংশগ্রহন করেন। জাতিসংঘের নেতৃবৃন্দ রোহিঙ্গা শরনার্থী সংকট নিরসনে সকলকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান এবং এই সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার পাশাপাশি যে কোন সমস্যায় পাশে থাকার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন জাতিসংঘ তথ্য কেন্দ্রের ন্যাশনাল ইনফরমেশন অফিসার।

      

রুয়ান্ডায় টুটসি জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেসের বাণী, ৭ এপ্রিল ২০১৯

এ বছর রুয়ান্ডায় টুটসিদের ওপর চালানো গণহত্যার ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে, যে ঘটনা সাম্প্রতিক মানব ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকারতম অধ্যায়। তিন মাসেরও কম সময়ে আট লাখেরও বেশি মানুষকে পদ্ধতিগতভাবে হত্যা করা হয়, যাদের বেশির ভাগই টুটসি। এ ছাড়া হুটু এবং গণহত্যার বিরোধিতাকারীরাও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। এই দিনে আমরা হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা জানাই এবং গণহত্যায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে ও তাদের স্বাভাবিক অবস্থায় প্রত্যাবর্তনের ঘটনাগুলো স্মরণ করি।

এ ধরনের নৃশংস ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য আমরা আমাদের নেওয়া দৃঢ় সিদ্ধান্ত নবায়ন করছি। তবে এর পাশাপাশি আমরা প্রত্যক্ষ করছি, বিশ্বের অনেক অংশেই বিদেশী আতঙ্ক, বর্ণবাদ ও অসহনশীলতা বিপজ্জনকভাবে মাথাচাড়া দিচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্বেষপ্রসূত বক্তব্য ও সহিংসতার উসকানির বিস্তার সমস্যা তৈরি করছে। এগুলো আমাদের মূল্যবোধকে আঘাত করছে এবং মানবাধিকার, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য হুমকি। যে কোনো জায়গায়ই বিদ্বেষপ্রসূত বক্তব্য ও সহিংসতায় উসকানি চিহ্নিত ও মোকাবিলা করা এবং অতীতে এগুলো যেমন বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধ ও গণহত্যার কারণ হয়েছে, এখন তেমনটা হতে দেওয়া বন্ধ করা উচিত। বিস্তারিত পড়ুন

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস এর বাণী, ২ এপ্রিল ২০১৯

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসে আমরা বৈষম্যের বিরুদ্ধে কথা বলছি, বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যকে উদযাপন এবং অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পুরোপুরি অন্তর্ভূক্তি ও অংশগ্রহণ নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি জোরদার করছি। নিজেদের সম্ভাবনা পুরোপুরি মেলে ধরতে তাদের সহযোগিতা করা, যা টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা ২০৩০ এর মূল প্রতিশ্রুতি – “কাউকেই পেছনে ফেলে না রাখা’ এর বাস্তবায়নে আমাদের প্রচেষ্টার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

এই বছর দিবসটি অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাধীন জীবনযাপন এবং প্রকৃতপক্ষে, তাদের মূল মানবাধিকারের বিষয়গুলো অনুশীলনে সহযোগিতা করতে সুলভ সহায়ক প্রযুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করছে। উচ্চ ব্যয়, দুষ্প্রাপ্যতা এবং সচেতনতার ঘাটতিসহ এ ধরনের প্রযুক্তি তাদের হাতে পৌঁছাতে বিশ্বজুড়ে এখনো বড় বড় বাধা রয়েছে।

প্রতিবন্ধি ব্যক্তিদের অধিকার বিষয়ক ঘোষণাসহ জাতিসংঘ সনদ, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের ঘোষণার মূল্যবোধকে নিশ্চিতকরণে গত বছর আমি নতুন প্রযুক্তির ওপর একটি কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করি। বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসে, আসুন আমরা সমতা, ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভূক্তি- এইসব মূল্যবোধ এবং অটিজমে আক্রান্ত ব্যক্তিদের পূর্ণ অংশগ্রহণের এবং তাদের অধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতাসমূহের অনুশীলনের প্রয়োজনীয় উপকরণগুোর নিশ্চয়তার লক্ষে আমাদের প্রতিশ্রুতি পূনর্ব্যক্ত করি।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস এর বাণী, ৮ মার্চ ২০১৯

শান্তি ও নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং টেকসই উন্নয়নে বৈশ্বিক অগ্রগতির ক্ষেত্রে অপরিহার্য বিষয় হলো লিঙ্গসমতা ও নারীর অধিকার। আমরা কেবল ঐতিহাসিক অবিচার সমূহকে চ্যালেঞ্জ করে এবং সবার অধিকার ও মর্যাদার পক্ষে কথা বলে প্রতিষ্ঠানে আস্থা পুনঃস্থাপন ও সংহতি পুনর্গঠন করতে পারি এবং বহুমাত্রিকভাবে লাভবান হতে পারি।

সাম্প্রতিক দশকগুলোয় কিছু ক্ষেত্রে নারীর অধিকার ও নেতৃত্ব প্রশ্নে আমরা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি লক্ষ্য করেছি। কিন্তু এসব অর্জন পুরো বা ধারাবাহিক অর্জনের তুলনায় নগন্য এবং এগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে এরই মধ্যে পুরুষশাসিত সমাজব্যবস্থা থেকে সমস্যাপূর্ণ নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া এসেছে।

ক্ষমতার প্রশ্নে লিঙ্গসমতা একটি অপরিহার্য বিষয়। আমরা পুরুষশাসিত বিশ্বে পুরুষনিয়ন্ত্রিত সংস্কৃতির মধ্যে বাস করি। নারীর অধিকারকে আমরা যখন সবার লক্ষ্য হিসেবে নিই, যা কি না সবাইকে লাভবান করতে পারে এমন একটি পথ, তখনই কেবল আমরা ভারসাম্যে পরিবর্তন দেখি।

নারীদের মধ্যে থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীর সংখ্যা বাড়ানো অপরিহার্য। জাতিসংঘে আমি এই বিষয়টিকে ব্যক্তিগত ও জরুরি অগ্রাধিকার হিসেবে নিয়েছি। বিশ্বজুড়ে আমাদের দলগুলোকে নেতৃত্ব দানকারীদের মধ্যে এখন লিঙ্গসমতা নিশ্চিত হয়েছে এবং জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপনা দলে এখন নারী সদস্যের সংখ্যা আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি। আমরা এ ক্ষেত্রে অগ্রগতি অব্যাহত রাখব।

বিস্তারিত পড়ুন

বিশ্ব বেতার দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস এর বাণী, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

বেতার একটি শক্তিশালী উপকরণ।

এমনকি আজকের ডিজিটাল যোগাযোগের এই বিশ্বে, যেকোনো মাধ্যমের চেয়ে বেতার বেশি মানুষের কাছে পৌঁছায়।

এটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছে দেয় এবং গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমুহে সচেতনতা তৈরি করে।

এবং এটি একটি ব্যক্তিগত, পারস্পরিক তথ্য আদান-প্রদানের একটি মাধ্যম, যেখানে মানুষ নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি, উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারে। বেতার একটি সমাজ গড়তে পারে।

জাতিসংঘের জন্য, বিশেষ করে আমাদের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে যুদ্ধে আক্রান্ত জনগোষ্ঠীকে তথ্য সরবরাহে, পুনরায় একতাবদ্ধ করতে এবং ক্ষমতায়নে বেতার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

বিশ্ব বেতার দিবসে, আসুন আমরা সংলাপ, সহনশীলতা ও শান্তির পক্ষে প্রচারণা চালানোর ক্ষেত্রে বেতারের শক্তিকে স্বীকৃতি প্রদান করি।

ধন্যবাদ।

Watch Video Message

 

 

আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস এর বাণী, ২৪ জানুয়ারি ২০১৯

আজ আমরা প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস পালন করছি।

শিক্ষা জীবনকে রূপান্তর ঘটায়। জাতিসংঘের শান্তির দূত হিসেবে মালালা ইউসুফজাই একবার বলেছিলেন, ‘একটি শিশু, একজন শিক্ষক, একটি বই এবং একটি কলম বিশ্বটাকেই বদলে দিতে পারে।’ নেলসন ম্যান্ডেলা প্রকৃতই শিক্ষাকে ‘বিশ্বকে পরিবর্তনে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

জাতিসংঘে যোগ দেওয়ার কিংবা আমার নিজের দেশে সরকারি দায়িত্ব পালনের বহু আগে আমি শিক্ষকতার পেশায় ছিলাম। আমি দেখেছি, দারিদ্র দূরীকরণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় একটি শক্তি হিসেবে লিসবনের কুঁড়েঘরগুলোয় শিক্ষা কীভাবে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

আজ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে শিক্ষা।

অসমতা কমিয়ে আনতে এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে আমাদের শিক্ষা প্রয়োজন।

লিঙ্গ সমতা অর্জন ও বাল্যবিয়ে রোধে আমাদের শিক্ষা প্রয়োজন।

আমাদের এই গ্রহের সম্পদগুলো রক্ষায় আমাদের শিক্ষা প্রয়োজন। বিস্তারিত পড়ুন

জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো-এর বাণী

বাংলাদেশে জাতিসংঘ দিবস উদযাপন করতে পারাটা আমার জন্য সম্মানের, যে দেশের বিশ্বকে জানানোর মতো উন্নয়নের আকর্ষণীয় গল্প রয়েছে।

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) যুগে, মেয়ে শিশু ও কিশোরীদের বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা এবং মেয়েদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে লিঙ্গ সমতা আনা অগ্রবর্তী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও ছিল।

২০০৯ সালে বাংলাদেশ প্রথম দেশ হিসেবে অগ্রসর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা কৌশল ও কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন করে এবং পরবর্তীকালে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে ঝুঁকি হ্রাস পরিকল্পনা প্রণয়নে সেনদাই ফ্রেমওয়ার্ক-এর চেতনা অনুসরণ করে।

জাতি হিসেবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় জাতিসংঘ গর্বিত ও বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে।

বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষী পাঠানো সবচেয়ে বড় দেশ হিসেবে; অভবিাসী সংক্রান্ত গ্লোবাল কম্প্যাক্ট -এর প্রথম সারির প্রবক্তা হিসেবে; এবং জি-৭৭ ও জাতিসংঘ তহবিল ও কর্মসূচির নির্বাহী পরিষদগুলোয় অগ্রবর্তী ভূমিকা রেখে শান্তি ও উন্নয়নে অব্যাহতভাবে যথেষ্ট অবদান রেখে চলেছে।

মানবাধিকার পরিষদের চতুর্থ মেয়াদের সদস্যপদের সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমি বাংলাদেশকে বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে মানবাধিকার রক্ষায় অগ্রবর্তী ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করি।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য বাংলাদেশ উদারভাবে তার দরজা খুলে দিয়েছে। কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং বাংলাদেশ সরকার এই সংকটে প্রথম সাড়া দিয়েছে। সরকারের নেতৃত্ব জীবন রক্ষাকারী সহায়তা ও সুরক্ষা দিতে পদক্ষেপ নিয়েছে। জাতিসংঘ এবং আমাদের অংশীদারেরা এই সংকটে সরকারের সাড়ায় সহযোগিতা দিতে কাজ করতে পেরে গর্বিত।

এমডিজির অর্জনগুলোর ওপর ভিত্তি করে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে এমডিজির অর্জনগুলোর প্রাথমিক অবদানের সুবাদে বাংলাদেশ এখন পরবর্তী মাইলফলক স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উত্তরণের জন্য প্রস্তুত।

এটা মেনে নেওয়া জরুরি যে, এটি টেকসই উন্নয়নের ২০৩০-এজেন্ডা এবং কাউকেই পেছনে পড়ে থাকতে না দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে গৃহীত ১৭টি সুদূরপ্রসারী, জনকেন্দ্রীক, মানবাধিকারভিত্তিক লক্ষ্যের সঙ্গে আন্ত-সম্পর্কিত।

কাউকে পেছনে রেখে নয়- এই প্রতিশ্রুতির অর্থ হলো সমাজের সবার জন্য সব লক্ষ্য ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে। বাংলাদেশে নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে এবং তাদের ক্ষমতায়নের জন্য আরও পদক্ষেপ নেওয়া বিশেষভাবে জরুরি।

এজেন্ডা-২০৩০-এর প্রতিশ্রুতি হলো ‘সবার আগে সবচেয়ে অনগ্রসর পর্যন্ত পৌঁছানো’-মেয়ে শিশুরা পড়ালেখা ছেড়ে বিয়ে করতে বাধ্য হচ্ছে; প্রতিবন্ধী তরুণ নারীরা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না; মাদকসেবীদের প্রয়োজন স্বাস্থ্যসেবা; বাংলাদেশি তরুণ ও শরণার্থী তরুণদের সমাজে অবদান রাখার মতো উৎপাদন দক্ষতা থাকা উচিত। এঁরা সেইসব জনগোষ্ঠীর কিছু অংশ, যাদের কথা অবশ্যই শোনা উচিত। পরিবর্তনের দূত হিসেবে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। টেকসই উন্নয়ন অর্জনে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠন ও তথ্যসহ সুশাসন এবং গণ স্বাধীনতাগুলো নিশ্চিত করতে হবে।

আজকের তরুণদের মধ্যেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ লুকিয়ে আছে- আমাদের উচিত তাদের কথা শোনা ও তাদের ক্ষমতায়ন করা; তাদের সঙ্গে এবং তাদের জন্য আমাদের কাজ তরান্বিত করা। এ বিষয়ে আমি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উদ্ধৃতি দিচ্ছি:

‘শান্তি, অর্থনৈতিক গতিশীলতা, সামাজিক ন্যায়বিচার, সহনশীলতা-এই সব এবং আরও অনেক কিছু তরুণদের সম্ভাবনাময় ক্ষমতার বিকাশে প্রেরণা জোগানোর ওপর নির্ভর করে। দূরবর্তী সময়ে নয় কেবল, কন্তিু আজই এবং এখনই।’

জাতিসংঘ প্রত্যাশা করে, বাংলাদেশ এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা এবং অন্যান্য বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা, কাউকে পিছিয়ে না রাখা, মানদণ্ড অর্জন এবং সমতা, বৈষম্যহীন ব্যবস্থা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করবে। অংশীদার হিসাবে, জাতিসংঘ সমর্থন দিতে প্রস্তুত।

শুভ জন্মদিন জাতিসংঘ।

মিস. মিয়া সেপ্পো
জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারী
জাতিসংঘ সিস্টেম বাংলাদেশ

আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস উপলক্ষ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেসের বাণী, ২ অক্টোবর ২০১৮

আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবসে আমরা মহাত্মা গান্ধীর দূরদৃষ্টি ও প্রজ্ঞাকে স্মরণ করছি, আজ যাঁর জন্মবার্ষিকী আমরা পালন করছি।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা সংঘাত আর জটিল চ্যালেঞ্জের এই সময়ে গান্ধীর অহিংসা দর্শন আজও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। জাতিসংঘে, সহিংসতামুক্ত একটি বিশ্ব — এবং অহিংসার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূরীকরণ আমাদের কাজের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

বৈষম্য মাথাচাড়া দেওয়ার এবং ন্যায্য বিশ্বায়নের অপরিহার্যতার এই সময়ে আমরা সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য গান্ধীর প্রতিশ্রুতির কথাও স্মরণ করছি।

এবং বিশ্বের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, লিঙ্গসমতা নিশ্চিত এবং কাউকেই পেছনে না ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টারত এই সময়ে মানব মর্যাদার প্রতি গান্ধীর প্রতিশ্রুতি আমাদের চলার পথকে আলোকিত করতে পারে।

গান্ধী যেমনটা বলেছেন, ‘অহিংসা বড় শক্তি।’ জাতিসংঘ সনদে এই চেতনা প্রতিধ্বণিত হয়েছে। সনদের ষষ্ঠ অধ্যায়ে শান্তির প্রতি হুমকিগুলো চিহ্নিতকরণে সর্বপ্রথম- আলোচনা, মধ্যস্থতা, সালিশ, বিচারিক নিষ্পত্তি এবং অন্য শান্তিপূর্ণ উপায়গুলো অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

গান্ধী প্রমাণ করেছেন, অহিংসা ইতিহাস পরিবর্তন করতে পারে। কাজেই তাঁর সাহস ও প্রত্যয় থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আসুন আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠা কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাই, বিশ্বের সব জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই উন্নয়ন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করি।