রুয়ান্ডায় টুটসি জনগোষ্ঠীর ওপর গণহত্যার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেসের বাণী, ৭ এপ্রিল ২০১৯

এ বছর রুয়ান্ডায় টুটসিদের ওপর চালানো গণহত্যার ২৫ বছর পূর্ণ হচ্ছে, যে ঘটনা সাম্প্রতিক মানব ইতিহাসের সবচেয়ে অন্ধকারতম অধ্যায়। তিন মাসেরও কম সময়ে আট লাখেরও বেশি মানুষকে পদ্ধতিগতভাবে হত্যা করা হয়, যাদের বেশির ভাগই টুটসি। এ ছাড়া হুটু এবং গণহত্যার বিরোধিতাকারীরাও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। এই দিনে আমরা হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তিদের শ্রদ্ধা জানাই এবং গণহত্যায় বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের যে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে ও তাদের স্বাভাবিক অবস্থায় প্রত্যাবর্তনের ঘটনাগুলো স্মরণ করি।

এ ধরনের নৃশংস ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে জন্য আমরা আমাদের নেওয়া দৃঢ় সিদ্ধান্ত নবায়ন করছি। তবে এর পাশাপাশি আমরা প্রত্যক্ষ করছি, বিশ্বের অনেক অংশেই বিদেশী আতঙ্ক, বর্ণবাদ ও অসহনশীলতা বিপজ্জনকভাবে মাথাচাড়া দিচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্বেষপ্রসূত বক্তব্য ও সহিংসতার উসকানির বিস্তার সমস্যা তৈরি করছে। এগুলো আমাদের মূল্যবোধকে আঘাত করছে এবং মানবাধিকার, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও শান্তির জন্য হুমকি। যে কোনো জায়গায়ই বিদ্বেষপ্রসূত বক্তব্য ও সহিংসতায় উসকানি চিহ্নিত ও মোকাবিলা করা এবং অতীতে এগুলো যেমন বিদ্বেষপ্রসূত অপরাধ ও গণহত্যার কারণ হয়েছে, এখন তেমনটা হতে দেওয়া বন্ধ করা উচিত।

আমি সব রাজনতৈকি, ধর্মীয় ও নাগরিক সমাজের নেতাদের প্রতি বিদ্বেষপ্রসূত বক্তব্য ও বৈষম্য প্রত্যাখান এবং সামাজিক একতা বিনষ্ট করা ও ঘৃণা-অসহনশীলতা সৃষ্টির মূল কারণগুলো চিহ্নিত ও প্রশমনে জোর দিয়ে কাজ করার আহবান জানাচ্ছি।

আমাদের সব সমাজেই মন্দের আনাগোনা থাকলেও পারস্পরিক বোঝাপড়া, উদারতা, ন্যায়বিচার ও সমন্বয়ও রয়েছে। আসুন, সবার জন্য সম্প্রীতির ভবিষ্যৎ গঠনে আমরা একসঙ্গে কাজ করি। রুয়ান্ডায় ২৫ বছর আগে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের এটাই সবচেয়ে ভালো উপায়।