জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের তিন দশকব্যাপী সেবা ও ত্যাগ

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীরা বিভিন্ন সংস্কৃতি ধারন এবং ভিন্ন ভাষায় কথা বলে, কিন্তু তাদের কাজের উদ্দেশ্যে এক যেমন, ঝুকিপুর্ন গোষ্টীকে নিরাপত্তা প্রদান এবং দ্বন্দ থেকে শান্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সংগ্রামরত দেশগুলোকে সমর্থন করা।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অভিযানে বাংলাদেশ সর্ববৃহৎ অবদানকারী দেশগুলোর একটি, দেশটি সর্বপ্রথম ১৯৮৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পোশাকধারী কর্মী প্রেরন করে । গত তিন দশকব্যাপী এদেশের সাহসী পূরুষ এবং নারী বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে সেবা প্রদান করে অপরিমেয় অবদান রেখে চলেছে।

ডিসেম্বর ২০১৭ সাল পর্যন্ত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘের ১০টি মিশনে বাংলাদেশের সর্বমোট ৭২৪৬ জন সৈন্য ও পুলিশ কাজ করছে। এসব বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীরা বিভিন্ন ধরনের ভুমিকা পালন করে থাকেন যেমন, সুরক্ষা প্রদান, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান এবং রাস্তাঘাট নির্মান, জাতিসংঘের নীল পতাকার অধীনে থেকেই তারা এসমস্ত দেশের সরকার ও জনগনের সেবা করছে।

এবছর শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের অবদানের ৩০ তম বার্ষিকী। জাতিসংঘ তাদের সাহসী অবদানের স্বৃকৃতী এবং প্রশংসা জ্ঞাপন করছে।

  

 

বিশ্ব বেতার দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেসের বাণী – “বেতার এবং ক্রীড়া” – ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

 

বেতার বিশ্বের সর্বাধিক শ্রোতার কাছে পৌছায় ।

যোগাযোগের নাটকীয় উন্নয়নের এই যুগে বিনোদন, শিক্ষাদান, অবহিত করন ও অনুপ্রানিত করার ক্ষেত্রে বেতার তার ভূমিকা অক্ষুন্ন রেখেছে ।
এটি গোষ্ঠীসমূহকে ঐক্যবদ্ধ ও ক্ষমতায়ন করতে পারে এবং অবহেলিতদের কন্ঠস্বর দিতে পারে ।

এই বছর, শীতকালীন অলিম্পিক প্রস্তুতির পাশাপাশি, ক্রীড়া সম্প্রচার বিভিন্নভাবে জাগরন ও অর্জনকে ঘিরে জনগণকে যেভাবে একত্রিত করছে সেটাও আমরা স্বীকার করছি ।

বিশ্ব বেতার দিবসে আসুন আমরা বেতার এবং ক্রীড়া উভয়ই উদযাপন করি যা মানুষকে তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা অর্জনে সহায়তা করে ।

নববর্ষ উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্টোনিও গুটেরেস-এর ভিডিও বার্তা: বিশ্বের জন্য সতর্কতা – ১ জানুয়ারী ২০১৮

সমগ্র বিশ্বের বন্ধুগণ,

শুভ নববর্ষ।

এক বছর আগে যখন আমি জাতিসংঘে যোগদান করি, তখন ২০১৭ সালকে  শান্তিপূর্ণ বর্ষে পরিণত করার  আবেদন জানিয়েছিলাম।

দুর্ভাগ্যবশত, মূলত এর উল্টোটাই ঘটেছে।

২০১৮ সালের নববর্ষের এই দিনে, আমি কোন আবেদন করছি না। আমি আমাদের এই বিশ্বের জন্য একটি সংকেত অর্থাৎ বিপদ  সংকেত জানাচ্ছি ।

সংঘর্ষ অনেক গভীর হয়েছে এবং নতুন বিপদের উথ্থান ঘটেছে।

স্নায়ু যুদ্ধ পরবর্তী পরমাণু অস্ত্রের বিষয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ এখন সর্বাধিক।

আমাদের চেয়ে জলবায়ুর পরিবর্তন দ্রুততর হচ্ছে । বিস্তারিত পড়ুন

জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারীর যুব ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ

জাতিসংঘের সহায়তায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মডেল ইউনাইটেড নেশনস অ্যাসোসিয়েশন (ডিইউমুনা) গত ১৮-২১ ডিসেম্বর ২০১৭ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে চার দিনব্যাপী জাতিসংঘ মডেল সম্মেলনের আয়োজন করে। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব নসরুল হামিদ । বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিজ্ মিয়া সেপ্পো ও এম্বাসেডর ফারুক সোবহান বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন। মাননীয় প্রতিমন্ত্রী তার বক্তৃতায়, বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের ওপর আলোকপাত করেন এবং ডেলিগেটদের সাথে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। মিজ সেপ্পো তার বক্তৃতায় এসডিজি, অভিবাসন, নগরায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, রোহিঙ্গা, মানবাধিকার, যুব উন্নয়ন এবং জাতিসংঘের সংস্কারসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন। সম্মেলনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৪৫০ জন ডেলিগেট অংশগ্রহণ করেন। সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমেদ প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন। মাননীয় সংসদ সদস্য ও সংসদে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব নাহিম রাজ্জাক এবং ইউএনডিপি কান্ট্রি ডিরেক্টর সুদীপ্ত মুখার্জী বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দেন। এ ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন, ঢাকাস্থ জাতিসংঘ তথ্যকেন্দ্রের ন্যাশনাল ইনফরমেশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান এবং ইউনিস্যাব প্রেসিডেন্ট মামুন মিয়াঁ বক্তব্য রাখেন। অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক প্রতিনিধিকে জাতিসংঘের প্রকাশনা ও এসডিজি পোস্ট কার্ড প্রদান করা হয়।

জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্টোনিও গুটেরেস এর বাণী – ২৪ অক্টোবর ২০১৭

আমাদের এই বিশ্ব নানামুখী মারাত্মক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে ।

দ্বন্দ ও অসমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে ।

চরম আবহাওয়া এবং মারাত্মক অসমতা ।

পারমাণবিক অস্ত্রশস্ত্র সহ নিরাপত্তা হুমকি ।

এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের আছে সরঞ্জাম ও সম্পদ । যেটি আমাদের দরকার তা হলো ইচ্ছাশক্তি।

বিশ্বের সমস্যাগুলো সীমান্তসমূহ অতিক্রম করেছে ।

আমাদের ভবিষ্যতকে রূপান্তরে মত পার্থক্যগুলো অতিক্রম করতে হবে।

যখন আমরা সমগ্র জনগণের মানবাধিকার এবং মর্যাদার লক্ষ্য অর্জন করবো তখন একটি শান্তিময়, টেকসই এবং ন্যায়ভিত্তিক বিশ্ব প্রতিষ্ঠিত হবে ।

আসুন এই জাতিসংঘ দিবসে, ‘আমরা জনগণ’ এই রূপকল্পকে বাস্তবতায় পরিণত করি ।

ধন্যবাদ, শুকরান, শিয়ে শিয়ে, মেরসি, স্পাছিবো, গ্রাসিয়াস, ওব্রিগাও ।

আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেস ও জাতিসংঘ যুব দূত এর ভিডিও বানী

মানিকগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ-এ টুগেদার ক্যাম্পেইন

ঢাকাস্হ জাতিসংঘ তথ্য কেন্দ্র এবং মানিকগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ যৌথভাবে টুগেদার ক্যাম্পেইন এর ওপর কলেজ অডিটোরিয়ামে একটি সেমিনারের আয়োজন করে। টুগেদার হলো উদ্বাস্তু ও অভিবাসীদের মর্যাদা সংক্রান্ত জাতিসংঘের একটি উদ্যেগ।বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রনালয়ের মাননীয় যুগ্মসচিব মাহমুদ হাসান এতে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন এবং মানিকগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস সন্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তৃতা প্রদান করেন। অন্যান্যদের মধ্যে রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির সাবেক পরিচালক মনোয়ারা সরকার এবং মানিকগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বশিউর আহমেদ বক্তব্য রাখেন।ঢাকাস্হ জাতিসংঘ তথ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত-কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান তার বক্তব্যে টুগেদার ক্যাম্পেইনের পটভূমি গত ডিসেম্বরে ঢাকায় অনুষ্ঠিত নবম জিএফএমডি সামিট

এবং নিউইয়র্কে গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত অভিবাসী ও উদ্বাস্তু সংক্রান্ত শীর্ষ সম্মেলনের মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে কয়েকটি উদাহরনসহ মানবিক বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন যেমন, প্রতিটি মানুষকে শ্রদ্ধা ও মর্যদা প্রদান। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার এই বিষয়গুলোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌস বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের উন্নয়ন এবং ভূমিকার কথা তার বক্তৃতার মাধ্যমে তুলে ধরেন এবং এ ব্যাপারে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। আলোচনা সভায় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করেন। অংশগ্রহনকারীদের মাঝে টুগেদার বিষয়ক বাংলায় প্রকাশিত প্রচারপএ বিতরন করা হয়। অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক এবং ঢাকাস্হ জাতিসংঘ তথ্য কেন্দ্রের কর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহন করেন।

 

ঢাকাস্থ জাতিসংঘ তথ্য কেন্দ্রের আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন

আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন উপলক্ষে ঢাকাস্থ জাতিসংঘ তথ্য কেন্দ্র ও শহীদ তিতুমীর একাডেমী মানিকগঞ্জ গত ৮ মার্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে এক সেমিনারের আয়োজন করে। সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। প্রধান অতিথি হিসেবে জাতিসংঘ তথ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার ওপর মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির প্রাক্তন পরিচালক  মনোয়ারা সরকার। আলোচনা শেষে, শিক্ষার্থীরা প্রশ্নোত্তোর পর্বে অংশ নেয়। সেমিনারে শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহন করে।শিক্ষার্থীদের মাঝে জাতিসংঘ সম্পর্কিত বাংলায় প্রকাশিত পুস্তক বিতরন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং ঢাকাস্হ জাতিসংঘ তথ্য কেন্দ্রের কর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহন করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে কর্মশালা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত

01ঢাকা ২৯ অক্টোবর ২০১৬ :  জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে ঢাকাস্থ জাতিসংঘ তথ্য কেন্দ্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাতিসংঘ সমিতি (ডুমুনা) এবং জাতিসংঘ যুব ও ছাত্র সমিতি বাংলাদেশ (ইউনিস্যাব) যৌথ ভাবে দিনব্যাপী এক কর্মশালা ও সেমিনার আয়োজন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আর সি মজুমদার হলে আয়োজিত এই সেমিনারে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ২০০ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। সেমিনারে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক (জাতিসংঘ) মোসাম্মত শাহানারা মনিকা বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন এবং জাতিসংঘ তথ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মনিরুজ্জামান  মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। আশা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডালেম চন্দ্র বর্মণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ডঃ দেলোয়ার হোসেন এবং ঢাকা আহসানিয়া মিশনের পরিচালক ( যোগাযোগ) কাজি আলি রেজা  রিসোর্স পার্সন হিসেবে বক্তব্য রাখেন। সেমিনারে আরও উপস্থিত ছিলেন ইউনিস্যাব সভাপতি মামুন মিয়া ও ডুমুনা সভাপতি ওয়াহিদ সিদ্দিক। এতে মডেল ইউএন সম্মেলনের বিভিন্ন পদ্ধতি এবং জাতিসংঘ দিবসের প্রাসঙ্গিকতা বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়াও একটি চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। সেমিনারে উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের মাঝে জাতিসংঘ মহাসচিবের বাণী বিতরণ করা হয়।