লেখকের আর্কাইভঃ Mohammad Moniruzzaman

আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস এর বাণী, ২৪ জানুয়ারি ২০১৯

আজ আমরা প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস পালন করছি।

শিক্ষা জীবনকে রূপান্তর ঘটায়। জাতিসংঘের শান্তির দূত হিসেবে মালালা ইউসুফজাই একবার বলেছিলেন, ‘একটি শিশু, একজন শিক্ষক, একটি বই এবং একটি কলম বিশ্বটাকেই বদলে দিতে পারে।’ নেলসন ম্যান্ডেলা প্রকৃতই শিক্ষাকে ‘বিশ্বকে পরিবর্তনে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

জাতিসংঘে যোগ দেওয়ার কিংবা আমার নিজের দেশে সরকারি দায়িত্ব পালনের বহু আগে আমি শিক্ষকতার পেশায় ছিলাম। আমি দেখেছি, দারিদ্র দূরীকরণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় একটি শক্তি হিসেবে লিসবনের কুঁড়েঘরগুলোয় শিক্ষা কীভাবে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

আজ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে শিক্ষা।

অসমতা কমিয়ে আনতে এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে আমাদের শিক্ষা প্রয়োজন।

লিঙ্গ সমতা অর্জন ও বাল্যবিয়ে রোধে আমাদের শিক্ষা প্রয়োজন।

আমাদের এই গ্রহের সম্পদগুলো রক্ষায় আমাদের শিক্ষা প্রয়োজন। বিস্তারিত পড়ুন

নববর্ষ উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস এর বাণী, ১ জানুয়ারী ২০১৯

বিশ্বের প্রিয় নাগরিকবৃন্দ,

আমি আপনাদের জন্য শুভ, শান্তিপূ্র্ণ ও সাফল্যপূর্ণ নববর্ষ কামনা করছি।

গত নববর্ষে, আমি যেসব সতর্ক বাণী এবং বিপদের কথা বলেছিলাম, সেগুলো এখনো রয়ে গেছে। অনেকের জন্যই এগুলো উদ্বেগজনক এবং আমাদের বিশ্বকে দিতে হচ্ছে চাপের পরীক্ষা।

জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের জীবনের চেয়েও দ্রুত গতিতে ঘটছে।

ভূ-রাজনৈতিক বিভক্তি আরও গভীর হচ্ছে, সংঘাতের সমাধান আরও কঠিন করে তুলছে।

এবং রেকর্ড সংখ্যক মানুষ নিরাপত্তা ও সুরক্ষার সন্ধানে স্থানান্তরিত হচ্ছে।

অসমতা বাড়ছে। এবং মানুষ সেই বিশ্বকে নিয়ে প্রশ্ন তুলছে যেখানে গুটি কয়েক মানুষের হাতে এই পৃথিবীর অর্ধেক জনগোষ্ঠীর সমপরিমাণ সম্পদ।

অসহিষ্ণুতা বাড়ছে।

আস্থা কমছে।

তবে এরপরও আশার কারণ রয়েছে।

ইয়েমেন আলোচনা শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি সুযোগ তৈরি করেছে।

রিয়াদে গত সেপ্টেম্বরে ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়ার মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমে এসেছে এবং পুরো অঞ্চলে এটি একটি সম্ভাবনার সৃষ্টি করেছে।

এবং দক্ষিণ সুদানে সংঘাতে থাকা পক্ষগুলোর চুক্তি শান্তি প্রতিষ্ঠার সুযোগ সৃষ্টি করেছে, গত চার মাসে তার পূর্বের চার বছরের তুলনায় আরও অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে করণীয় অনুমোদনে জাতিসংঘ কাতোভিচে কার্যসূচী স্বাক্ষর করা দেশগুলোকে একত্র করতে সমর্থ হয়েছে।

ক্রমবর্ধমান এই হুমকি মোকাবিলায় আমাদের এখন প্রয়াস বাড়াতে হবে।

সর্বশেষ সেরা সুযোগটা কাজে লাগানোর এটাই সময়।

অনিয়ন্ত্রিত ও ক্রমবর্ধমান জলবায়ু পরিবর্তন থামানোর এটাই সময়।

সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় জাতিসংঘ অভিবাসন ও শরণার্থী বিষয়েও কিছু বৈশ্বিক মাইলফলক চুক্তি স্বাক্ষর প্রত্যক্ষ করেছে, যা জীবন বাঁচাতে এবং ক্ষতিকর অতিকথন মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

এবং সব জায়গায়, মানুষ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পেছনে ছুটছে- যা সমৃদ্ধ এক গ্রহে শান্তি, ন্যায়বিচার ও সমৃদ্ধির জন্য আমাদের বৈশ্বিক পরিকল্পনা।

যখন আন্তর্জাতিক সহযোগিতা কার্যকর হয়, তখন এই বিশ্বটা জিতে যায়।

২০১৯ সালে জাতিসংঘ সেতুবন্ধ তৈরি ও সমাধানের পথ অনুসন্ধানে মানুষকে একত্র করা অব্যাহত রাখবে।

আমরা চাপ অব্যাহত রাখব।

এবং আমরা কখনোই হাল ছেড়ে দেব না।

নতুন বছরের শুরুতে আসুন আমরা সম্মুখ হুমকির সমাধানে, মানবিক মর্যাদা রক্ষায় এবং উন্নত এক ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে একত্রে কাজ করি।

আমি আপনাকে ও আপনার পরিবারসমূহকে একটি শান্তিপূর্ণ ও স্বাস্থ্যময় নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাই।

জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো-এর বাণী

বাংলাদেশে জাতিসংঘ দিবস উদযাপন করতে পারাটা আমার জন্য সম্মানের, যে দেশের বিশ্বকে জানানোর মতো উন্নয়নের আকর্ষণীয় গল্প রয়েছে।

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) যুগে, মেয়ে শিশু ও কিশোরীদের বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা এবং মেয়েদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে লিঙ্গ সমতা আনা অগ্রবর্তী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও ছিল।

২০০৯ সালে বাংলাদেশ প্রথম দেশ হিসেবে অগ্রসর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা কৌশল ও কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন করে এবং পরবর্তীকালে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে ঝুঁকি হ্রাস পরিকল্পনা প্রণয়নে সেনদাই ফ্রেমওয়ার্ক-এর চেতনা অনুসরণ করে।

জাতি হিসেবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় জাতিসংঘ গর্বিত ও বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে।

বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষী পাঠানো সবচেয়ে বড় দেশ হিসেবে; অভবিাসী সংক্রান্ত গ্লোবাল কম্প্যাক্ট -এর প্রথম সারির প্রবক্তা হিসেবে; এবং জি-৭৭ ও জাতিসংঘ তহবিল ও কর্মসূচির নির্বাহী পরিষদগুলোয় অগ্রবর্তী ভূমিকা রেখে শান্তি ও উন্নয়নে অব্যাহতভাবে যথেষ্ট অবদান রেখে চলেছে।

মানবাধিকার পরিষদের চতুর্থ মেয়াদের সদস্যপদের সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমি বাংলাদেশকে বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে মানবাধিকার রক্ষায় অগ্রবর্তী ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করি।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য বাংলাদেশ উদারভাবে তার দরজা খুলে দিয়েছে। কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং বাংলাদেশ সরকার এই সংকটে প্রথম সাড়া দিয়েছে। সরকারের নেতৃত্ব জীবন রক্ষাকারী সহায়তা ও সুরক্ষা দিতে পদক্ষেপ নিয়েছে। জাতিসংঘ এবং আমাদের অংশীদারেরা এই সংকটে সরকারের সাড়ায় সহযোগিতা দিতে কাজ করতে পেরে গর্বিত।

এমডিজির অর্জনগুলোর ওপর ভিত্তি করে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে এমডিজির অর্জনগুলোর প্রাথমিক অবদানের সুবাদে বাংলাদেশ এখন পরবর্তী মাইলফলক স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উত্তরণের জন্য প্রস্তুত।

এটা মেনে নেওয়া জরুরি যে, এটি টেকসই উন্নয়নের ২০৩০-এজেন্ডা এবং কাউকেই পেছনে পড়ে থাকতে না দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে গৃহীত ১৭টি সুদূরপ্রসারী, জনকেন্দ্রীক, মানবাধিকারভিত্তিক লক্ষ্যের সঙ্গে আন্ত-সম্পর্কিত।

কাউকে পেছনে রেখে নয়- এই প্রতিশ্রুতির অর্থ হলো সমাজের সবার জন্য সব লক্ষ্য ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে। বাংলাদেশে নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে এবং তাদের ক্ষমতায়নের জন্য আরও পদক্ষেপ নেওয়া বিশেষভাবে জরুরি।

এজেন্ডা-২০৩০-এর প্রতিশ্রুতি হলো ‘সবার আগে সবচেয়ে অনগ্রসর পর্যন্ত পৌঁছানো’-মেয়ে শিশুরা পড়ালেখা ছেড়ে বিয়ে করতে বাধ্য হচ্ছে; প্রতিবন্ধী তরুণ নারীরা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না; মাদকসেবীদের প্রয়োজন স্বাস্থ্যসেবা; বাংলাদেশি তরুণ ও শরণার্থী তরুণদের সমাজে অবদান রাখার মতো উৎপাদন দক্ষতা থাকা উচিত। এঁরা সেইসব জনগোষ্ঠীর কিছু অংশ, যাদের কথা অবশ্যই শোনা উচিত। পরিবর্তনের দূত হিসেবে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। টেকসই উন্নয়ন অর্জনে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠন ও তথ্যসহ সুশাসন এবং গণ স্বাধীনতাগুলো নিশ্চিত করতে হবে।

আজকের তরুণদের মধ্যেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ লুকিয়ে আছে- আমাদের উচিত তাদের কথা শোনা ও তাদের ক্ষমতায়ন করা; তাদের সঙ্গে এবং তাদের জন্য আমাদের কাজ তরান্বিত করা। এ বিষয়ে আমি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উদ্ধৃতি দিচ্ছি:

‘শান্তি, অর্থনৈতিক গতিশীলতা, সামাজিক ন্যায়বিচার, সহনশীলতা-এই সব এবং আরও অনেক কিছু তরুণদের সম্ভাবনাময় ক্ষমতার বিকাশে প্রেরণা জোগানোর ওপর নির্ভর করে। দূরবর্তী সময়ে নয় কেবল, কন্তিু আজই এবং এখনই।’

জাতিসংঘ প্রত্যাশা করে, বাংলাদেশ এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা এবং অন্যান্য বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা, কাউকে পিছিয়ে না রাখা, মানদণ্ড অর্জন এবং সমতা, বৈষম্যহীন ব্যবস্থা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করবে। অংশীদার হিসাবে, জাতিসংঘ সমর্থন দিতে প্রস্তুত।

শুভ জন্মদিন জাতিসংঘ।

মিস. মিয়া সেপ্পো
জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারী
জাতিসংঘ সিস্টেম বাংলাদেশ

জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস-এর বাণী, ২8 অক্টোবর ২০১৮

বাংলাদেশের জনগণ, সরকার এবং জাতিসংঘের সকল কর্মীবৃন্দ যারা তাদের সহযোগী পক্ষের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তাঁদের সবাইকে শুভেচ্ছা জানানো আমার জন্য গভীর আনন্দের বিষয়, শুভ জাতিসংঘ দিবস।

জাতিসংঘ দিবস আমাদের প্রতিষ্ঠাতা সনদ তৈরীর জন্মদিন হিসেবে পালন করা হয়। ঐতিহাসিক দলিলটিতে ‘আমরাই জনগণ – এর প্রত্যাশা, স্বপ্ন ও আকাঙ্খা নিহিত।

প্রতিদিন, জাতিসংঘের সব নারী ও পুরুষ এই সনদকে বাস্তবিকভাবে অর্থপূর্ণ করে তুলতে কাজ করেন।

বাধা আর প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আমরা কখনো হাল ছেড়ে দেই না।

চরম দারিদ্র্যের হার কমছে কিন্তু বৈষম্যকে বাড়তে দেখছি আমরা।

আমরা হাল ছেড়ে দেই নাই, কারণ আমরা জানি, বৈষম্য কমিয়ে এনে আমরা বিশ্বজুড়ে প্রত্যাশা ও সুযোগ বৃদ্ধি করছি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করছি।

জলবায়ু পরিবর্তনের হার আমাদের গৃহীত পদক্ষেপ-এর চেয়েও দ্রুততর, কিন্তু আমরা হাল ছেড়ে দেই না, কারণ আমরা জানি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপই সমাধানের একমাত্র পথ।

বহু স্থানে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। কিন্তু আমরা হাল ছেড়ে দেই না, কারণ আমরা জানি মানবাধিকার ও মানুষের মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনই শান্তির প্রতিষ্ঠায় মূল শর্ত ।

সংঘাত গুণানুপাতিক হারে বাড়ছে- মানুষকে এর শিকার হতে হচ্ছে। কিন্তু আমরা হাল ছেড়ে দেই না, কারণ আমরা জানি, প্রতিটা পুরুষ, নারী ও শিশুর শান্তিপূর্ণ জীবনের অধিকার রয়েছে।

আমাদের কাজে বাংলাদেশ মূল্যবান অবদান অব্যাহত রেখে চলেছে, বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে প্রধান শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে ও দশ লক্ষাধিক রোহিংগা শরণার্থীকে তাঁদের ভয়ানক প্রয়োজনের সময় আশ্রয় ও জীবনরক্ষাকারী সহায়তা প্রদানে দেশটির সীমান্ত খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে।

জাতিসংঘ দিবসে, আসুন আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি পূনর্ব্যক্ত করি–
ভেঙে যাওয়া বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করতে।
আমাদের গ্রহটার ক্ষতি সারিয়ে তুলতে।
কাউকে পেছনে পড়ে থাকতে না দিতে।

আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস উপলক্ষ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেসের বাণী, ২ অক্টোবর ২০১৮

আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবসে আমরা মহাত্মা গান্ধীর দূরদৃষ্টি ও প্রজ্ঞাকে স্মরণ করছি, আজ যাঁর জন্মবার্ষিকী আমরা পালন করছি।

দীর্ঘ সময় ধরে চলা সংঘাত আর জটিল চ্যালেঞ্জের এই সময়ে গান্ধীর অহিংসা দর্শন আজও অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে। জাতিসংঘে, সহিংসতামুক্ত একটি বিশ্ব — এবং অহিংসার মাধ্যমে মতপার্থক্য দূরীকরণ আমাদের কাজের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

বৈষম্য মাথাচাড়া দেওয়ার এবং ন্যায্য বিশ্বায়নের অপরিহার্যতার এই সময়ে আমরা সামাজিক ন্যায়বিচারের জন্য গান্ধীর প্রতিশ্রুতির কথাও স্মরণ করছি।

এবং বিশ্বের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, লিঙ্গসমতা নিশ্চিত এবং কাউকেই পেছনে না ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টারত এই সময়ে মানব মর্যাদার প্রতি গান্ধীর প্রতিশ্রুতি আমাদের চলার পথকে আলোকিত করতে পারে।

গান্ধী যেমনটা বলেছেন, ‘অহিংসা বড় শক্তি।’ জাতিসংঘ সনদে এই চেতনা প্রতিধ্বণিত হয়েছে। সনদের ষষ্ঠ অধ্যায়ে শান্তির প্রতি হুমকিগুলো চিহ্নিতকরণে সর্বপ্রথম- আলোচনা, মধ্যস্থতা, সালিশ, বিচারিক নিষ্পত্তি এবং অন্য শান্তিপূর্ণ উপায়গুলো অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

গান্ধী প্রমাণ করেছেন, অহিংসা ইতিহাস পরিবর্তন করতে পারে। কাজেই তাঁর সাহস ও প্রত্যয় থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে আসুন আমরা শান্তি প্রতিষ্ঠা কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাই, বিশ্বের সব জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই উন্নয়ন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করি।

আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস উপলক্ষ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস-এর বাণী ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এ বছর আমরা বিশ্ব শান্তি দিবস পালনের পাশাপাশি মানবাধিকার সর্বজনীন ঘোষনাপত্রের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এই দলিল আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে শান্তি তখনই দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব যখন মানুষ ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও নিপীড়ন থেকে মুক্তি পাবে এবং উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি লাভ করবে।

মানবাধিকার সর্বজনীন ঘোষনাপত্রকে দিকনির্দেশক হিসেবে নিয়ে আমাদের অবশ্যই টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জন নিশ্চিত করতে হবে।

আমি আপনাদের লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে, অন্তর্ভূক্তিমূলক সমাজ গঠনে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সোচ্চার হতে উৎসাহিত করছি।

বিদ্যালয়ে, কর্মক্ষেত্রে, বাড়িতে নিজ নিজ ভূমিকা পালন করুন। আপনাদের প্রতিটা পদক্ষেপই গুরুত্বপূর্ণ।

সবার জন্য দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সবার জন্য মানবাধিকার নিশ্চিত ও তা রক্ষা করতে আসুন আমরা একসঙ্গে কাজ করি।

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস এর বাণী – ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বিগত শতাব্দীগুলোর যে কোনো সময়ের তুলনায় গণতন্ত্র এখন অপেক্ষাকৃত বেশি চাপের মধ্যে রয়েছে। এ কারণে এই আন্তর্জাতিক দিবসে আমাদের উচিত গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সম্ভাব্য উপায় এবং যে পদ্ধতিগত চ্যালেঞ্জগুলো গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে, সেগুলোর সমাধান অনুসন্ধান করা।

এর অর্থ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য মোকাবিলা করা। এর অর্থ তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অন্তর্ভূক্ত করার মাধ্যমে আমাদের গণতন্ত্রকে আরো অন্তর্ভূক্তিমূলক করে তোলা। এর অর্থ উদীয়মান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় গণতন্ত্রকে আরও উদ্ভাবনী আর ইতিবাচকভাবে ক্রিয়াশীল করে তোলা।

কাউকে পিছনে না রাখা, এমন এক ভবিষ্যৎ নির্মাণে কাজ করছি আমরা, যেখানে অত্যাবশকীয় প্রশ্নগুলো বিবেচনায় নেওয়া অপরিহার্য। যেমন, পরবর্তী প্রজন্মের ওপর অভিবাসন বা জলবায়ু পরিবর্তন কী প্রভাব ফেলবে? ঝুঁকি এড়িয়ে নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনার সর্বোচ্চ ব্যবহার আমরা কীভাবে করতে পারি? কীভাবে সর্বোচ্চ উপযোগী শাসনপদ্ধতি গড়ে তোলা যায়, যাতে করে গণতন্ত্র উত্তম জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে পারবে এবং জনগণের আকাক্ষা পুরোপুরি পূরণ করতে পারবে?

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে, আসুন আমরা গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের জন্য যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করি।

আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস ও জাতিসংঘ মহাসচিবের যুব দূত জয়াথমা বিক্রামানায়েকে এর যৌথ ভিডিও বানী, ১২ আগস্ট ২০১৮

আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস এর লিখিত বানী, ১২ আগস্ট ২০১৮

তরুণ সমাজের ওপরই টিকে আছে বিশ্বের আশা।

শান্তি, অর্থনৈতিক গতিশীলতা, সামাজিক সুবিচার, সহনশীলতা এবং আরও অনেক কিছু, আজ ও আগামীকাল নির্ভর করছে তারুণ্যের শক্তির উপর।

এখনো বিশ্বের ৪০ কোটিরও অধিক তরুণ নারী ও পুরুষ সশস্ত্র সংঘাত কিংবা সংঘবদ্ধ সহিংসতার মধ্যে বাস করছে।

নিজেদের অধিকার প্রশ্নে তরুণ প্রজন্মের লক্ষ লক্ষ সদস্য বঞ্চনা, হয়রানি, চোখ রাঙানি এবং অনান্য লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে।

বিশেষ করে তরুণ নারী ও কিশোরীরা অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।

স্বাধীনভাবে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ এবং নিজেদের স্বপ্ন জয়ের জন্য বিশ্বের তরুণ জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন নিরাপদ স্থানসমূহ যথা- প্রকাশ্য, নাগরিক, শারীরিক ও ডিজিটাল স্থান।

তরুণ প্রজন্মের পূর্ণ বিকাশের জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে আমাদের অবশ্যই বিনিয়োগ করা উচিত।

তরুণ প্রজন্মের কথা শুনতে এবং যেসব সিদ্ধান্ত তাঁদের ওপর প্রভাব ফেলে, সে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়ার ক্ষেত্রে এই প্রজন্মের অর্থপূর্ণ নিশ্চিত অংশগ্রহণের পথ তৈরিতে জাতিসংঘ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তরুণ প্রজন্মের জন্য এবং তাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ আরও বাড়াতে এই সেপ্টেম্বরে আমরা নতুন একটি কৌশল অবলম্বন করব।

তরুণ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে আসুন আমরা এই বিশ্বকে সবার জন্য উত্তম করে তুলি।

সবাইকে আন্তর্জাতিক যুব দিবসের শুভেচ্ছা!