আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস উপলক্ষ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস-এর বাণী ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

এ বছর আমরা বিশ্ব শান্তি দিবস পালনের পাশাপাশি মানবাধিকার সর্বজনীন ঘোষনাপত্রের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এই দলিল আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে শান্তি তখনই দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব যখন মানুষ ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও নিপীড়ন থেকে মুক্তি পাবে এবং উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি লাভ করবে।

মানবাধিকার সর্বজনীন ঘোষনাপত্রকে দিকনির্দেশক হিসেবে নিয়ে আমাদের অবশ্যই টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জন নিশ্চিত করতে হবে।

আমি আপনাদের লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে, অন্তর্ভূক্তিমূলক সমাজ গঠনে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সোচ্চার হতে উৎসাহিত করছি।

বিদ্যালয়ে, কর্মক্ষেত্রে, বাড়িতে নিজ নিজ ভূমিকা পালন করুন। আপনাদের প্রতিটা পদক্ষেপই গুরুত্বপূর্ণ।

সবার জন্য দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় সবার জন্য মানবাধিকার নিশ্চিত ও তা রক্ষা করতে আসুন আমরা একসঙ্গে কাজ করি।

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস এর বাণী – ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বিগত শতাব্দীগুলোর যে কোনো সময়ের তুলনায় গণতন্ত্র এখন অপেক্ষাকৃত বেশি চাপের মধ্যে রয়েছে। এ কারণে এই আন্তর্জাতিক দিবসে আমাদের উচিত গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে সম্ভাব্য উপায় এবং যে পদ্ধতিগত চ্যালেঞ্জগুলো গণতন্ত্রকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে, সেগুলোর সমাধান অনুসন্ধান করা।

এর অর্থ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য মোকাবিলা করা। এর অর্থ তরুণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে রাজনৈতিক ব্যবস্থায় অন্তর্ভূক্ত করার মাধ্যমে আমাদের গণতন্ত্রকে আরো অন্তর্ভূক্তিমূলক করে তোলা। এর অর্থ উদীয়মান চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় গণতন্ত্রকে আরও উদ্ভাবনী আর ইতিবাচকভাবে ক্রিয়াশীল করে তোলা।

কাউকে পিছনে না রাখা, এমন এক ভবিষ্যৎ নির্মাণে কাজ করছি আমরা, যেখানে অত্যাবশকীয় প্রশ্নগুলো বিবেচনায় নেওয়া অপরিহার্য। যেমন, পরবর্তী প্রজন্মের ওপর অভিবাসন বা জলবায়ু পরিবর্তন কী প্রভাব ফেলবে? ঝুঁকি এড়িয়ে নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনার সর্বোচ্চ ব্যবহার আমরা কীভাবে করতে পারি? কীভাবে সর্বোচ্চ উপযোগী শাসনপদ্ধতি গড়ে তোলা যায়, যাতে করে গণতন্ত্র উত্তম জীবনযাত্রা নিশ্চিত করতে পারবে এবং জনগণের আকাক্ষা পুরোপুরি পূরণ করতে পারবে?

আন্তর্জাতিক গণতন্ত্র দিবসে, আসুন আমরা গণতন্ত্রের ভবিষ্যতের জন্য যৌথভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করি।

আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস ও জাতিসংঘ মহাসচিবের যুব দূত জয়াথমা বিক্রামানায়েকে এর যৌথ ভিডিও বানী, ১২ আগস্ট ২০১৮

আন্তর্জাতিক যুব দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস এর লিখিত বানী, ১২ আগস্ট ২০১৮

তরুণ সমাজের ওপরই টিকে আছে বিশ্বের আশা।

শান্তি, অর্থনৈতিক গতিশীলতা, সামাজিক সুবিচার, সহনশীলতা এবং আরও অনেক কিছু, আজ ও আগামীকাল নির্ভর করছে তারুণ্যের শক্তির উপর।

এখনো বিশ্বের ৪০ কোটিরও অধিক তরুণ নারী ও পুরুষ সশস্ত্র সংঘাত কিংবা সংঘবদ্ধ সহিংসতার মধ্যে বাস করছে।

নিজেদের অধিকার প্রশ্নে তরুণ প্রজন্মের লক্ষ লক্ষ সদস্য বঞ্চনা, হয়রানি, চোখ রাঙানি এবং অনান্য লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে।

বিশেষ করে তরুণ নারী ও কিশোরীরা অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে।

স্বাধীনভাবে নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ এবং নিজেদের স্বপ্ন জয়ের জন্য বিশ্বের তরুণ জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন নিরাপদ স্থানসমূহ যথা- প্রকাশ্য, নাগরিক, শারীরিক ও ডিজিটাল স্থান।

তরুণ প্রজন্মের পূর্ণ বিকাশের জন্য শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে আমাদের অবশ্যই বিনিয়োগ করা উচিত।

তরুণ প্রজন্মের কথা শুনতে এবং যেসব সিদ্ধান্ত তাঁদের ওপর প্রভাব ফেলে, সে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়ার ক্ষেত্রে এই প্রজন্মের অর্থপূর্ণ নিশ্চিত অংশগ্রহণের পথ তৈরিতে জাতিসংঘ দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

তরুণ প্রজন্মের জন্য এবং তাদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ আরও বাড়াতে এই সেপ্টেম্বরে আমরা নতুন একটি কৌশল অবলম্বন করব।

তরুণ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পৃথিবী গড়তে আসুন আমরা এই বিশ্বকে সবার জন্য উত্তম করে তুলি।

সবাইকে আন্তর্জাতিক যুব দিবসের শুভেচ্ছা!

বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস এর বাণী – ২০ জুন ২০১৮

আপনাকে যদি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যূত করা হয়, আপনি কী করবেন?

আজ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সংঘাত বা নিপীড়নের কারণে ৬ কোটি ৮০ লাখেরও বেশি মানুষ শরণার্থী কিংবা অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যূত।

এই সংখ্যা বিশ্বের ২০তম বৃহৎ দেশের জনসংখ্যার সমান।

গত বছর প্রতি দুই সেকেন্ডে একজন করে বাস্তুচ্যূত হয়েছে।

অধিকাংশই দরিদ্রতম দেশগুলোয়।

বিশ্ব শরণার্থী দিবসে, এই মানুষগুলোকে সাহায্য করতে আরও কী কী করতে পারি আমরা, তা অবশ্যই ভাবা উচিত আমাদের।

উত্তরের শুরু ঐক্য আর সংহতিতে। বিস্তারিত পড়ুন

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস এর বাণী

২ এপ্রিল ২০১৮: বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসে অটিজমে আক্রান্ত মানুষের অধিকারের পক্ষে আমরা সোচ্চার এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমাদের কন্ঠ উচ্চকিত করি।

এ বছর দিবসটিতে, অটিজমে আক্রান্ত নারী ও কিশোরীদের ক্ষমতায়নের গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করা হয়েছে।

তারা নানামূখী চ্যালেঞ্জের সম্মুক্ষীণ, যেমন- শিক্ষাগ্রহণ এবং চাকুরী প্রাপ্তিতে অন্যান্যদের মত সমঅধিকারে বাধাপ্রাপ্ত, তাদের প্রজনন সংক্রান্ত অধিকার প্রাপ্তিতে অস্বীকৃতি এবং তাদের নিজস্ব পছন্দের স্বাধীনতায় বাধা ও তাদের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর নীতি প্রনয়নে তাদের সীমিত অংশগ্রহণ।

লিঙ্গসমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত আমাদের কার্যক্রম বিশ্বের সব নারী ও কিশোরীদের কাছে অবশ্যই পৌঁছাতে হবে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমাদের উদ্যোগগুলো যা ২০৩০ সালের এজেন্ডার মূল প্রতিশ্রুতি- কাউকে পিছিয়ে না রাখা, তা অবশ্যই তুলে ধরা।

বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসে অটিজমে আক্রান্ত সকল ব্যক্তির অংশগ্রহণকে এগিয়ে নিতে আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতির পূণর্ব্যক্ত করি এবং এটা নিশ্চিত করি যে, তাদের অধিকার ও মৌলিক স্বাধীনতা অনুশীলনের সক্ষমতায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস এর বাণী – ৮ মার্চ ২০১৮

Women in Brazil march for women's rights. Photo: UN Women/Bruno Spada

নারীর অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ এক সময়ে আমরা অবস্থান করছি । ঐতিহাসিক ও কাঠামোগত যে অসমতা নিপীড়ন ও বৈষম্যের পথ সুগম করেছে, তা এর আগে এতটা প্রকাশ্য হয়নি। লাতিন আমেরিকা থেকে ইউরোপ হয়ে এশিয়া, সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে, চলচ্চিত্র নির্মাণে, কারখানায়, সড়কে যে যৌন নিপীড়ন, হয়রানি ও বৈষম্য হচ্ছে, তার প্রতি শূন্য সহনশীলতা প্রদর্শন এবং স্থায়ী পরিবর্তনের আহবান জানাচ্ছে নারীরা ।

লিঙ্গ সমতা অর্জন ও নারীর ক্ষমতায়ন আমাদের সময়ের অসমাপ্ত একটি কাজ এবং এটি আমাদের এই বিশ্বে মানবাধিকারের জন্য সর্বোচ্চ চ্যালেঞ্জ ।
বিস্তারিত পড়ুন

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের তিন দশকব্যাপী সেবা ও ত্যাগ

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীরা বিভিন্ন সংস্কৃতি ধারন এবং ভিন্ন ভাষায় কথা বলে, কিন্তু তাদের কাজের উদ্দেশ্যে এক যেমন, ঝুকিপুর্ন গোষ্টীকে নিরাপত্তা প্রদান এবং দ্বন্দ থেকে শান্তির পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সংগ্রামরত দেশগুলোকে সমর্থন করা।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা অভিযানে বাংলাদেশ সর্ববৃহৎ অবদানকারী দেশগুলোর একটি, দেশটি সর্বপ্রথম ১৯৮৮ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে পোশাকধারী কর্মী প্রেরন করে । গত তিন দশকব্যাপী এদেশের সাহসী পূরুষ এবং নারী বিভিন্ন দেশে শান্তিরক্ষা মিশনে সেবা প্রদান করে অপরিমেয় অবদান রেখে চলেছে।

ডিসেম্বর ২০১৭ সাল পর্যন্ত পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জাতিসংঘের ১০টি মিশনে বাংলাদেশের সর্বমোট ৭২৪৬ জন সৈন্য ও পুলিশ কাজ করছে। এসব বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীরা বিভিন্ন ধরনের ভুমিকা পালন করে থাকেন যেমন, সুরক্ষা প্রদান, প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান এবং রাস্তাঘাট নির্মান, জাতিসংঘের নীল পতাকার অধীনে থেকেই তারা এসমস্ত দেশের সরকার ও জনগনের সেবা করছে।

এবছর শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের অবদানের ৩০ তম বার্ষিকী। জাতিসংঘ তাদের সাহসী অবদানের স্বৃকৃতী এবং প্রশংসা জ্ঞাপন করছে।

  

 

বিশ্ব বেতার দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেসের বাণী – “বেতার এবং ক্রীড়া” – ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮

 

বেতার বিশ্বের সর্বাধিক শ্রোতার কাছে পৌছায় ।

যোগাযোগের নাটকীয় উন্নয়নের এই যুগে বিনোদন, শিক্ষাদান, অবহিত করন ও অনুপ্রানিত করার ক্ষেত্রে বেতার তার ভূমিকা অক্ষুন্ন রেখেছে ।
এটি গোষ্ঠীসমূহকে ঐক্যবদ্ধ ও ক্ষমতায়ন করতে পারে এবং অবহেলিতদের কন্ঠস্বর দিতে পারে ।

এই বছর, শীতকালীন অলিম্পিক প্রস্তুতির পাশাপাশি, ক্রীড়া সম্প্রচার বিভিন্নভাবে জাগরন ও অর্জনকে ঘিরে জনগণকে যেভাবে একত্রিত করছে সেটাও আমরা স্বীকার করছি ।

বিশ্ব বেতার দিবসে আসুন আমরা বেতার এবং ক্রীড়া উভয়ই উদযাপন করি যা মানুষকে তাদের পূর্ণ সম্ভাবনা অর্জনে সহায়তা করে ।

নববর্ষ উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্টোনিও গুটেরেস-এর ভিডিও বার্তা: বিশ্বের জন্য সতর্কতা – ১ জানুয়ারী ২০১৮

সমগ্র বিশ্বের বন্ধুগণ,

শুভ নববর্ষ।

এক বছর আগে যখন আমি জাতিসংঘে যোগদান করি, তখন ২০১৭ সালকে  শান্তিপূর্ণ বর্ষে পরিণত করার  আবেদন জানিয়েছিলাম।

দুর্ভাগ্যবশত, মূলত এর উল্টোটাই ঘটেছে।

২০১৮ সালের নববর্ষের এই দিনে, আমি কোন আবেদন করছি না। আমি আমাদের এই বিশ্বের জন্য একটি সংকেত অর্থাৎ বিপদ  সংকেত জানাচ্ছি ।

সংঘর্ষ অনেক গভীর হয়েছে এবং নতুন বিপদের উথ্থান ঘটেছে।

স্নায়ু যুদ্ধ পরবর্তী পরমাণু অস্ত্রের বিষয়ে বৈশ্বিক উদ্বেগ এখন সর্বাধিক।

আমাদের চেয়ে জলবায়ুর পরিবর্তন দ্রুততর হচ্ছে । বিস্তারিত পড়ুন