আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস এর বাণী, ২৪ জানুয়ারি ২০১৯

আজ আমরা প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক শিক্ষা দিবস পালন করছি।

শিক্ষা জীবনকে রূপান্তর ঘটায়। জাতিসংঘের শান্তির দূত হিসেবে মালালা ইউসুফজাই একবার বলেছিলেন, ‘একটি শিশু, একজন শিক্ষক, একটি বই এবং একটি কলম বিশ্বটাকেই বদলে দিতে পারে।’ নেলসন ম্যান্ডেলা প্রকৃতই শিক্ষাকে ‘বিশ্বকে পরিবর্তনে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র’ বলে অভিহিত করেছিলেন।

জাতিসংঘে যোগ দেওয়ার কিংবা আমার নিজের দেশে সরকারি দায়িত্ব পালনের বহু আগে আমি শিক্ষকতার পেশায় ছিলাম। আমি দেখেছি, দারিদ্র দূরীকরণ ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় একটি শক্তি হিসেবে লিসবনের কুঁড়েঘরগুলোয় শিক্ষা কীভাবে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করেছে।

আজ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার প্রাণকেন্দ্রে রয়েছে শিক্ষা।

অসমতা কমিয়ে আনতে এবং স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে আমাদের শিক্ষা প্রয়োজন।

লিঙ্গ সমতা অর্জন ও বাল্যবিয়ে রোধে আমাদের শিক্ষা প্রয়োজন।

আমাদের এই গ্রহের সম্পদগুলো রক্ষায় আমাদের শিক্ষা প্রয়োজন।

বিদ্বেষপ্রসূত বক্তব্য, বিদেশাতঙ্ক (জেনোফোবিয়া) ও অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবং বৈশ্বিক নাগরিকত্ব রক্ষায় আমাদের শিক্ষা প্রয়োজন।

এখনো অন্তত ২৬২ মিলিয়ন শিশু, কিশোর–কিশোরী ও তরুণ শিক্ষার সুযোগ পাচ্ছে না, যাদের অধিকাংশই মেয়ে। আরও কোটি শিশু, কিশোর–কিশোরী ও তরুণ রয়েছে, যারা বিদ্যালয়ে গিয়েও পাঠ শেষ করতে পারে না।

এটা তাদের শিক্ষা লাভের মানবাধিকারের লঙ্ঘন। বিশ্ব শিশু–কিশোর ও তরুণদের এমন একটি প্রজন্মকে ধারণ করতে পারবে না, যারা একুশ শতকের অর্থনীতিতে দক্ষতাহীন। আমরাও বিশ্বের অর্ধেক মানুষকে পেছনে পড়ে থাকতে দিয়ে এগিয়ে যেতে পারব না।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার চতুর্থ লক্ষ্য অর্জনে, অন্তর্ভূক্তিমূলক ও ন্যায্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এবং সবার জন্য জীবনব্যাপী শেখার সুযোগ সৃষ্টির প্রচারণার জন্য আমাদের অবশ্যই আরও অনেক কিছু করতে হবে।

শিক্ষার মাধ্যমে আন্তঃপ্রজন্ম দারিদ্র্যের দেয়াল ভাঙার কিংবা দারিদ্র্যের চক্রের দিক ঘোরানো সম্ভব। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যদি সব শিশু, কিশোর–কিশোরী মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করার সুযোগ পায়, তাহলে ৪২০ মিলিয়ন মানুষকে দারিদ্র্য থেকে উত্তরণ করানো সম্ভব।

আসুন আমরা জনকল্যাণে শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিই; সহযোগিতা, অংশীদারত্ব ও তহবিল দানের মাধ্যমে শিক্ষার অগ্রগতিতে সহায়তা করি; এবং কাউকে পেছনে পড়ে থাকতে না দেওয়ার যাত্রার সূচনা শিক্ষার মাধ্যমে হওয়া উচিত বলে স্বীকার করে নিই।