জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী মিয়া সেপ্পো-এর বাণী

বাংলাদেশে জাতিসংঘ দিবস উদযাপন করতে পারাটা আমার জন্য সম্মানের, যে দেশের বিশ্বকে জানানোর মতো উন্নয়নের আকর্ষণীয় গল্প রয়েছে।

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এমডিজি) যুগে, মেয়ে শিশু ও কিশোরীদের বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা এবং মেয়েদের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়ে শিক্ষার প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে লিঙ্গ সমতা আনা অগ্রবর্তী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশও ছিল।

২০০৯ সালে বাংলাদেশ প্রথম দেশ হিসেবে অগ্রসর জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা কৌশল ও কর্ম পরিকল্পনা প্রণয়ন করে এবং পরবর্তীকালে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে ঝুঁকি হ্রাস পরিকল্পনা প্রণয়নে সেনদাই ফ্রেমওয়ার্ক-এর চেতনা অনুসরণ করে।

জাতি হিসেবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় জাতিসংঘ গর্বিত ও বিশ্বস্ত অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে।

বৈশ্বিক পর্যায়ে বাংলাদেশ জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষী পাঠানো সবচেয়ে বড় দেশ হিসেবে; অভবিাসী সংক্রান্ত গ্লোবাল কম্প্যাক্ট -এর প্রথম সারির প্রবক্তা হিসেবে; এবং জি-৭৭ ও জাতিসংঘ তহবিল ও কর্মসূচির নির্বাহী পরিষদগুলোয় অগ্রবর্তী ভূমিকা রেখে শান্তি ও উন্নয়নে অব্যাহতভাবে যথেষ্ট অবদান রেখে চলেছে।

মানবাধিকার পরিষদের চতুর্থ মেয়াদের সদস্যপদের সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমি বাংলাদেশকে বৈশ্বিক, আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে মানবাধিকার রক্ষায় অগ্রবর্তী ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করি।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য বাংলাদেশ উদারভাবে তার দরজা খুলে দিয়েছে। কক্সবাজারের স্থানীয় জনগোষ্ঠী এবং বাংলাদেশ সরকার এই সংকটে প্রথম সাড়া দিয়েছে। সরকারের নেতৃত্ব জীবন রক্ষাকারী সহায়তা ও সুরক্ষা দিতে পদক্ষেপ নিয়েছে। জাতিসংঘ এবং আমাদের অংশীদারেরা এই সংকটে সরকারের সাড়ায় সহযোগিতা দিতে কাজ করতে পেরে গর্বিত।

এমডিজির অর্জনগুলোর ওপর ভিত্তি করে এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে এমডিজির অর্জনগুলোর প্রাথমিক অবদানের সুবাদে বাংলাদেশ এখন পরবর্তী মাইলফলক স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় উত্তরণের জন্য প্রস্তুত।

এটা মেনে নেওয়া জরুরি যে, এটি টেকসই উন্নয়নের ২০৩০-এজেন্ডা এবং কাউকেই পেছনে পড়ে থাকতে না দেওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে গৃহীত ১৭টি সুদূরপ্রসারী, জনকেন্দ্রীক, মানবাধিকারভিত্তিক লক্ষ্যের সঙ্গে আন্ত-সম্পর্কিত।

কাউকে পেছনে রেখে নয়- এই প্রতিশ্রুতির অর্থ হলো সমাজের সবার জন্য সব লক্ষ্য ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হবে। বাংলাদেশে নারীর অধিকার নিশ্চিত করতে এবং তাদের ক্ষমতায়নের জন্য আরও পদক্ষেপ নেওয়া বিশেষভাবে জরুরি।

এজেন্ডা-২০৩০-এর প্রতিশ্রুতি হলো ‘সবার আগে সবচেয়ে অনগ্রসর পর্যন্ত পৌঁছানো’-মেয়ে শিশুরা পড়ালেখা ছেড়ে বিয়ে করতে বাধ্য হচ্ছে; প্রতিবন্ধী তরুণ নারীরা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কাজের সুযোগ পাচ্ছেন না; মাদকসেবীদের প্রয়োজন স্বাস্থ্যসেবা; বাংলাদেশি তরুণ ও শরণার্থী তরুণদের সমাজে অবদান রাখার মতো উৎপাদন দক্ষতা থাকা উচিত। এঁরা সেইসব জনগোষ্ঠীর কিছু অংশ, যাদের কথা অবশ্যই শোনা উচিত। পরিবর্তনের দূত হিসেবে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। টেকসই উন্নয়ন অর্জনে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠন ও তথ্যসহ সুশাসন এবং গণ স্বাধীনতাগুলো নিশ্চিত করতে হবে।

আজকের তরুণদের মধ্যেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ লুকিয়ে আছে- আমাদের উচিত তাদের কথা শোনা ও তাদের ক্ষমতায়ন করা; তাদের সঙ্গে এবং তাদের জন্য আমাদের কাজ তরান্বিত করা। এ বিষয়ে আমি জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উদ্ধৃতি দিচ্ছি:

‘শান্তি, অর্থনৈতিক গতিশীলতা, সামাজিক ন্যায়বিচার, সহনশীলতা-এই সব এবং আরও অনেক কিছু তরুণদের সম্ভাবনাময় ক্ষমতার বিকাশে প্রেরণা জোগানোর ওপর নির্ভর করে। দূরবর্তী সময়ে নয় কেবল, কন্তিু আজই এবং এখনই।’

জাতিসংঘ প্রত্যাশা করে, বাংলাদেশ এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যমাত্রা এবং অন্যান্য বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রা, কাউকে পিছিয়ে না রাখা, মানদণ্ড অর্জন এবং সমতা, বৈষম্যহীন ব্যবস্থা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করবে। অংশীদার হিসাবে, জাতিসংঘ সমর্থন দিতে প্রস্তুত।

শুভ জন্মদিন জাতিসংঘ।

মিস. মিয়া সেপ্পো
জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারী
জাতিসংঘ সিস্টেম বাংলাদেশ