জাতিসংঘ দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিব এন্তোনিও গুতেরেস-এর বাণী, ২8 অক্টোবর ২০১৮

বাংলাদেশের জনগণ, সরকার এবং জাতিসংঘের সকল কর্মীবৃন্দ যারা তাদের সহযোগী পক্ষের সাথে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন তাঁদের সবাইকে শুভেচ্ছা জানানো আমার জন্য গভীর আনন্দের বিষয়, শুভ জাতিসংঘ দিবস।

জাতিসংঘ দিবস আমাদের প্রতিষ্ঠাতা সনদ তৈরীর জন্মদিন হিসেবে পালন করা হয়। ঐতিহাসিক দলিলটিতে ‘আমরাই জনগণ – এর প্রত্যাশা, স্বপ্ন ও আকাঙ্খা নিহিত।

প্রতিদিন, জাতিসংঘের সব নারী ও পুরুষ এই সনদকে বাস্তবিকভাবে অর্থপূর্ণ করে তুলতে কাজ করেন।

বাধা আর প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও আমরা কখনো হাল ছেড়ে দেই না।

চরম দারিদ্র্যের হার কমছে কিন্তু বৈষম্যকে বাড়তে দেখছি আমরা।

আমরা হাল ছেড়ে দেই নাই, কারণ আমরা জানি, বৈষম্য কমিয়ে এনে আমরা বিশ্বজুড়ে প্রত্যাশা ও সুযোগ বৃদ্ধি করছি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠা করছি।

জলবায়ু পরিবর্তনের হার আমাদের গৃহীত পদক্ষেপ-এর চেয়েও দ্রুততর, কিন্তু আমরা হাল ছেড়ে দেই না, কারণ আমরা জানি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপই সমাধানের একমাত্র পথ।

বহু স্থানে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। কিন্তু আমরা হাল ছেড়ে দেই না, কারণ আমরা জানি মানবাধিকার ও মানুষের মর্যাদার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনই শান্তির প্রতিষ্ঠায় মূল শর্ত ।

সংঘাত গুণানুপাতিক হারে বাড়ছে- মানুষকে এর শিকার হতে হচ্ছে। কিন্তু আমরা হাল ছেড়ে দেই না, কারণ আমরা জানি, প্রতিটা পুরুষ, নারী ও শিশুর শান্তিপূর্ণ জীবনের অধিকার রয়েছে।

আমাদের কাজে বাংলাদেশ মূল্যবান অবদান অব্যাহত রেখে চলেছে, বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে প্রধান শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে ও দশ লক্ষাধিক রোহিংগা শরণার্থীকে তাঁদের ভয়ানক প্রয়োজনের সময় আশ্রয় ও জীবনরক্ষাকারী সহায়তা প্রদানে দেশটির সীমান্ত খুলে দেওয়ার ক্ষেত্রে।

জাতিসংঘ দিবসে, আসুন আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি পূনর্ব্যক্ত করি–
ভেঙে যাওয়া বিশ্বাস পুনরুদ্ধার করতে।
আমাদের গ্রহটার ক্ষতি সারিয়ে তুলতে।
কাউকে পেছনে পড়ে থাকতে না দিতে।