আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি-মুনের বানী

banner_peacekeeping

এ বছর আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস পালিত হচ্ছে জাতিসংঘের ৭০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে, যা সংস্হাটির ইতিহাসে নীল হেলমেটধারীদের অমূল্য অবদানকে সম্মান জানানোর এক সুযোগ এনে দিয়েছে। জাতিসংঘ সনদের লক্ষ্য “আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় আমাদের শক্তির সম্মিলন” এটিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম প্রাণের সঞ্চার ঘটিয়েছে। অনেক বছরের লড়াই ও ত্যাগ সাধনের পর মূর্তিমান নীল হেলমেট যুদ্ধবিদ্ধস্থ দেশগুলোতে বসবাসকারী লক্ষ লক্ষ মানুষের আশার প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে উৎসাহ জোগায়, যা ঝুকি ও সুযোগগুলোকে উন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের ছোট ও বড় দেশসমূহে ছড়িয়ে দেয়। আমি সৈন্য ও পুলিশ প্রেরণকারী ১২২ টি দেশের এক লক্ষ সাত হাজার-এর অধিক পোষাকধারী শান্তিরক্ষীর উচ্ছ্বসিত প্রশাংসা করছি, যারা বর্তমানে ১৬ টি মিশনে কর্মরত রয়েছে।

জাতিসংঘ গত ৭০ বছরে ৭১ টি শান্তিরক্ষা কার্যক্রম প্রতিষ্ঠা করেছে। দেশসমূহের স্বাধীনতা প্রাপ্তিতে সাহায্য, ঐতিহাসিক নির্বাচনে সহায়তা, জনগণকে সুরক্ষা, লক্ষ লক্ষ প্রাক্তন যোদ্ধাকে নিরস্ত্রকরণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, মাবাধিকারের উন্নয়ন সাধন ও শরনার্থীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরী এবং বাস্তুচ্যুত লোকদের গৃহে প্রত্যাবর্তনে সহায়তায় দশ লক্ষের অধিক লোক শান্তিরক্ষী হিসাবে সেবা প্রদান করেছেন। এ সমস্ত কর্ম সার্থকভাবে সম্পাদিত হওয়ায় আমাদের সকলের গর্বিত হওয়া উচিত।

আজ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম অযৌক্তিক হুমকিসহ বিশ্বের জটিল পরিবেশে একটি নতুন বৈশ্বিক বাস্তবতাকে ধারণ করছে। আমরা আমাদের কার্যক্রমের আধুনিকায়ন, নতুন প্রযুক্তির সূচনা, অংশদাতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সংস্হাগুলোর সাথে আমাদের অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করেছি।

একই সময়ে সম্পদের তুলনায় চাহিদা অনেক বেশী। আমাদের প্রয়োজন অধিকতর তহবিল, প্রশিক্ষণ এবং যন্ত্রপাতি। আমাদের সৈনিক ও পুলিশ সদস্যদের অবশ্যই সবচেয়ে জটিল ম্যান্ডেট পালন করতে হয়, একইসাথে সর্বোচ্চ আচরণবিধি পালনে তারা অঙ্গিকারাবদ্ধ। সৈন্য প্রেরণের ঐতিহাসিক প্রভাবশালী ভূমিকা পুনরায় পালনের জন্য উন্নতদেশগুলোকে আমাদের প্রয়োজন। এছাড়া আমরা চাই সদস্য দেশগুলোর অধিকতর শক্তিশালী রাজনৈতিক সমর্থন যা শান্তি মিশনগুলোর অনুমোদন, অর্থায়ন এবং সৈন্য ও পুলিশ প্রেরণের জন্য প্রয়োজন।

এইসব চ্যালেঞ্জগুলোকে কিভাবে সর্বোৎকৃষ্টভাবে পর্যায়ে মোকাবেলা করা যায় তা খুজে বের করা এবং শান্তিরক্ষা ও বিশেষ রাজনৈতিক মিশনসহ বর্তমান জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম ও ভবিষ্যতের উদীয়মান চাহিদাগুলো মূল্যায়নের জন্য আমি একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন স্বাধীন প্যানেল নিয়োগ দিয়েছি। ২০০০ সালের পর এটাই হবে সবচেয়ে বড় মূল্যায়ন এবং আমি একগুচ্ছ সাহসী ও বিস্তৃত সুপারিশমালার অপেক্ষায় আছি।

আজকে আমরা তাদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাই যারা শান্তির অন্বেষনে জীবন উৎসর্গ করেছেন এবং শ্রদ্ধা জানাই সকল পুরুষ ও মহিলাদের যারা মাঠ পর্যায়ে পূর্বসুরীদের সেবার ধারা অব্যাহত রেখেছেন। গত বছর ১২৬ জন সহ, তিন হাজার তিন শত-এর অধিক শান্তিরক্ষী জাতিসংঘ পতাকাতলে কর্ম সম্পাদনকালে জীবন উৎসর্গ করেছেন। এই ধরনের ঝুকি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে, কেননা শান্তিরক্ষীরা বিশেষভাবে তৈরী বিস্ফোরক দ্রব্য অথবা জটিল সন্ত্রাসী আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

জাতিসংঘের সপ্তম দশক পূর্তিতে, আসুন আমরা সবাই সংস্হাটির এই অন্যতম উদ্যোগের কার্যকারীতা নিশ্চিত করতে আমাদের ভূমিকা পালন করি।